একাত্তরের চিঠি ( Ekattorer chithi )

(5 customer reviews)
  • জ্ঞান হোক উন্মুক্ত

    আমরা বিশ্বাস করি, জ্ঞানপ্রাপ্তির অধিকার রয়েছে সবার ।
  • এটি লাইব্রেরীর ডিজিটাল ভার্সন ব্যতীত অন্য কিছু নয়

    লাইব্রেরীতে গিয়ে সবাই যেমন বই পড়ে, তেমন ভাবে এখানেও পড়বে।
  • উন্নততর প্রযুক্তি

    আমাদের লাইব্রেরীতে থাকা বই ডাউনলোড যোগ্য নয়, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বইগুলো কেবলমাত্র পড়ার জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
  • এই লাইব্রেরীতে দেয়া বই, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়

    যেহেতু লাইব্রেরীতে দেয়া বই কেবলমাত্র পড়ার জন্য, কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দায় বুকশেলফ এর উপর বর্তাবে না।
  • বই ডাউনলোড যোগ্য নয়

    এই লাইব্রেরীতে দেয়া বই ডাউনলোড করার উপযোগী নয়।
5.0/5
5 reviews
5
0
0
0
0
  1. মাহমুদুল হৃদয়‎ to বইপোকাদের আড্ডাখানা (Boipokader Addakhana)

    #বইরিভিউ

    বই: একাত্তরের চিঠি
    প্রকাশনা: প্রথমা প্রকাশন
    পৃষ্ঠা: ১২৭টি
    মুদ্রিত মূল্য: ৩২০ টাকা

    “বাংলাদেশ” নামক দেশটির জন্মের পেছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনামল শেষে ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।পাকিস্তানের অংশ হয়ে অনাচার, অবহেলা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবাদ করতে হয়েছে বাঙালিদের। তারই চূড়ান্ত ফলাফল ১৯৭১। ‘৭০ এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে গণ আন্দোলন গড়ে ওঠে তা রুখে দিতে ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। নির্মমভাবে হত্যা করে হাজার হাজার মানুষকে। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় ‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ।

    দেশ মাতৃকার টানে লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটেছে যুদ্ধে। মায়ের সম্মান রক্ষা করতে শহীদ হয়েছে। দীর্ঘ নয়মাস ব্যাপী কত আত্মত্যাগ, কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের। সেই সময়ে লেখা বীর সেনা ও নানা নির্যাতিত মানুষের লেখা চিঠিসমূহ একত্রিত করে এই বইটি। কত বীর সন্তানেরা দেশের টানে বাড়ি থেকে পালিয়ে ট্রেনিং করতে গিয়েছে। মা’কে চিঠি লিখে ক্ষমা চেয়েছে, দোয়া চেয়েছে দেশকে স্বাধীন করানোর। চিঠিগুলো পড়লে বোঝা যায় কতটা দেশপ্রেম ছিল তাদের মাঝে, দেশকে স্বাধীন করতে যেন মরিয়া সকলে। প্রাণের ভয় তারা করেননি। এমন হৃদয়স্পর্শী সব চিঠি একত্রিত বইটিতে।
    চমৎকার এই বইটি পড়া না হলে আজই পড়ে ফেলুন।

    পাঠ প্রতিক্রিয়া: একেকটা চিঠি পড়েছি আর দীর্ঘশ্বাস ছেড়েছি। চোখে পানি এসে যায় কয়েকটি চিঠি পড়ে। কতটা কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তাঁদের! অসাধারণ একটা বই। সম্পাদনা পরিষদকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  2. Rezwana Naim Chowdhury‎ to পেন্সিল

    বই এর নাম: একাত্তরের চিঠি
    প্রথমা প্রকাশন
    প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী
    মূল্য: ২৫০ টাকা

    কোন বইএর সম্পর্কে লেখার মত বোদ্ধা আমি নই । তবুও একটা বই সম্পর্কে আলোচনা করার লক্ষ্যেই এই লেখা । আসলে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তাঁদের জন্য এই বইটা একটা ছবির মত উপস্থাপনা হতে পারে ।

    একটা স্বাধীন দেশে জন্মানো বা স্বাধীনভাবে মাতৃভাষায় কথা বলার , চলাফেরার সুযোগ ভোগ করা মানুষগুলো এই বইটা থেকে বুঝতে পারবে এই দেশটা কত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে তারা উপহার পেয়েছে !

    ইতিহাস ভিত্তিক লেখা পড়তে গেলে কিছু ক্ষেত্রে ক্লান্তি আসে । কারণ তথ্য এবং ঘটনা গুলোকে শেষ পর্যন্ত ধারণ করে যেতে হয়। একাত্তরের চিঠি এই সীমাবদ্ধতা থেকে একেবারেই মুক্ত । বিভিন্ন মানুষের চিঠি হওয়াতে একঘেয়েমির ও কোন অবকাশ নেই ।

    বেশিরভাগ চিঠিই মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রিয় মানুষ গুলোর কাছে লিখেছেন – মা , বাবা, ভাই, সহধর্মিনী, বন্ধু ইত্যাদি ।
    কিন্তু প্রত্যেকেরই একটা আশা খুব শীঘ্রই তারা দেশ মাতাকে জয়ের স্বাদ এনে দিবেন । তাদের এই আশার কাছে তাদের জীবনের মায়া তুচ্ছ , তাঁরা শহীদ হওয়ার জন্যই যেন যুদ্ধ করেছেন !

    যে ছেলেটা প্রবেশিকা পরীক্ষা ( এখনকার এস এস সি ) দেয়ার কথা , সে যুদ্ধে যেয়ে তার বাবাকে চিঠি দিয়ে বুঝায় শহীদের বা গাজীর বাবা হওয়ার মর্যাদা কতটুকু !

    যেই মা ছেলেকে কিছুক্ষণ না দেখলে আকুল হয়ে যেতেন , সেই মা কিভাবে নিজেই ছেলেকে যুদ্ধে পাঠান কোন চিঠিতে সেই বর্ণনা ।

    কোন চিঠি যোদ্ধা বাবা তার মাত্র কথা বলতে শেখা মেয়ের কাছে লিখেছেন । কথা দিয়েছেন তাকে স্বাধীন দেশ উপহার দিবেন ।

    কোন চিঠিতে কেউ তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে ফেলে আসার বেদনা , তাকে কাছে পাওয়ার তৃষ্ণা তুলে ধরেছেন । সারাদিন কোন খাওয়া জুটেনি, অভুক্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন স্ত্রী তাকে মজার মজার খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন । মজা করে লেখা এই কথাটার বেদনাটুকুও বোঝা যাচ্ছিল বেশ ভালোভাবেই ।

    একজন অনুরোধ জানিয়েছেন পত্রবাহককে যেন ভালো কিছু খেতে দেয়া হয় । কারণ যুদ্ধের ময়দানে বহুদিন তাদের কোন ভালো খাওয়ার সুযোগ হয়নি ।

    এত কষ্টকে এড়িয়ে যে খবরগুলো আনন্দে উদ্বেলিত করেছে তা হল তাদের যুদ্ধ জয়ের কাহিনী ! অল্প জনবল , গোলাবারুদের ঘাটতি , রাজাকার , আলবদরদের দৌরাত্ব সত্ত্বেও আমাদের অকুতোভয় কিভাবে বীর যোদ্ধারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন তার বর্ণনা ।

    এককথায় সংগ্রহে রাখার মত একটি বই এই একাত্তরের চিঠি ।

  3. মৌসুমি

    🇧🇩 একাত্তরের চিঠি 🇧🇩

    লক্ষ্ণৌ
    ১৩.১২.৭১ ইং

    ভাবি,
    আশা করি আপনারা নিরাপদে তুরা পৌঁছেছেন। আমরা আজ সকালে এখানে এসে পৌঁছি। রাস্তায় কোনো অসুবিধে হয়নি। ভাইজান বেশ ভালোই ছিলেন। গৌহাটি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ভ্রমণটা ছিল বড়ই মনোরম। সারি সারি পাহাড় আর তার পাদদেশে চায়ের বাগান। ভাইজান শুধু আপনার কথাই বলছিলেন, বলছিলেন কেন আপনাকে নিয়ে এলাম না। আপনি থাকলে ভ্রমণটা আরও আনন্দের হতো। ট্রেনে আমরা তিন রাত কাটাই। ভাইজানের বেশ ভালো ঘুম হয়। ব্যথাটাও ছিল খুবই কম। এই হসপিটাল শহর থেকে মাইল তিনেক দূর। ভাইজানের বেশ ভালো যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আজ তার ড্রেসিং হয়, কয়েক দিনের মধ্যে Skin grafting করা হবে। এরপর ঘা-টা শুকিয়ে যাবে বেশ তাড়াতাড়ি। অনুমান করছি গোটা পনের দিনের মধ্যেই তাকে পুনা পাঠানো হবে। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। তিনি এখন বেশ ভালো। পাশ ফিরেও শুতে পারেন।
    AMC OFFICER’S MESS-এ আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। আমি থাকার জন্য একটা প্রকোষ্ঠ পেয়েছি। এখানকার খাবার গৌহাটি থেকে বেশ ভালো।
    এখানে দুটি হসপিটাল আছে। কমান্ড হসপিটাল আর Base হসপিটাল। আমরা আছি Base হসপিটালে। কর্নেল খালেদ মোশাররফ রয়েছেন কমান্ড হসপিটালে। তিনি ভালো হয়ে গেছেন।
    এইমাত্র সিস্টার এসে ভাইজানকে কয়েকটা পায়ের ব্যায়াম শিখিয়ে দিয়ে গেল। এখন ভাইজান অনেক কিছুই করতে পারেন।
    ট্রেনে বসে ভাইজান আপনার কাছে লিখেছেন। যে ঠিকানা দিয়েছেন সেটাতে লিখবেন না। আমি ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি।
    অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মোহাম্মদ আলী সাহেবের কাছে ভাইজান চিঠি লিখেছেন, যেন দেশে যাওয়ার জন্য তিনি আপনাদের টয়োটা জীপ দেন। আপনি এ ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করবেন। এর মধ্যেই হয়তো ময়মনসিংহ মুক্ত হয়েছে। কী আনন্দের মধ্যেই না আপনারা দেশে ফিরছেন। প্রত্যেক দিন ভাইজানের কাছে চিঠি লিখবেন, তাতে তিনি আনন্দে থাকবেন।
    ঢাকা ফেরার আগে আমরা আপনাদের টেলিগ্রাম করব। আপনারা সদলবলে ঢাকাতে ভাইজানকে অভ্যর্থনা জানাবেন। দাদাভাইকে বলবেন, শ্যামগঞ্জ অথবা গৌরীপুর থেকে যেন বাড়িতে গাড়ি করে যেতে পারেন তার ব্যবস্থা করে। তাকে আরও বলবেন যেন আমার বন্ধু-বান্ধবদের খোঁজ করে। তারা যেন বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকে।
    নিতু কেমন আছে। ভাইজান প্রায় সময়ই আপনাদের কথা বলেন। আশা করি ভাবি আর জামি ভালো আছে।
    আব্বা-আম্মা কেমন আছেন? তাঁদের সালাম দিবেন।
    ডলি, জলি, ছবির কেমন আছে জানাবেন।
    ভাবী, আপনি শরীরের প্রতি যত্ন নেবেন। কোনো চিন্তা করবেন না। ঢাকায় ফিরে ভাইজান যেন আপনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পান।

    স্নেহের
    আনোয়ার।

    ★ চিঠি লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমানে (বইটি প্রকাশকালে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন।
    ★ চিঠি প্রাপক : লুৎফা তাহের। কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম-এর স্ত্রী।
    ★ চিঠিটি পাঠিয়েছেন : লুৎফা তাহের।

    এই চিঠিটি লেখা হয় মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে, যখন কর্নেল তাহের আহত হয়ে গৌহাটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্ণৌ সামরিক হাসপাতালে ছিলেন।

  4. ‎Aleya Armin Alow‎ to পেন্সিল

    # একাত্তরের চিঠি #
    আলেয়া আরমিন (আলো)

    ১৯৭১ সাল।আশ্বিনের অমাবস্যার রাতে চারদিকে ঘুটঘুটে আঁধার।ঝিঁঝিঁ পোকার ঝিমঝিম গুঞ্জনে অন্ধকারের রঙ যেন আরো গাঢ় হয়ে উঠছে।পুকুরপাড়ে কচুরিপানার ঝোপে একটি ডাহুকি একটানা ডেকে চলছে। হেমন্তের শুরুতেই হালকা শীত পড়েছে।ঘরের পিছনে সারি সারি সুপারি গাছ।উত্তরী হাওয়ায় ঝিরিঝিরি দোলে সুপারি গাছের পাতা।টিনের চালেও টুপটাপ শিশির গড়িয়ে পড়ে।রাত্রির দ্বীপ্রহর কেটে গেলেও ঘুমহীন বসে আছে পারুল।সারারাত সামাদের হাতদুটো ধরে মায়াভরা করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে প্রিয়তম স্বামীর দিকে।

    চারমাস আগেই পারুলের বিয়ে হয়েছে সামাদের সাথে।
    বিয়ের পরপর ঢাকায় স্বামীর কর্মস্থলের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার পেতেছিলো সে।কিন্তু শহরের অবস্থা ভালো না হওয়ায়,সেখানে গন্ডগোল বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠায়,তার শাশুড়ির জোরাজুরিতেই সপ্তাহখানেক হলো তারা গ্রামে চলে এসেছে।এই সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গী হয়ে সামাদ যুদ্ধে যাওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে উঠেছে।শাশুড়ি বারবার ছেলেকে বুঝিয়ে বলছে,বৌমা তিন মাসের গর্ভবতী।কখন কি হয় কে জানে!এমন সময়ে তুই যাসনে বাবা!অবশেষে সব আবদার সামাদের যুক্তির কাছে হার মেনেছে।আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে পারুলের চোখের পানি মুছে দিয়ে,দেশকে পাকিস্তানি হানাদারে হাত থেকে মুক্ত করার ব্রত নিয়ে সামাদ ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পড়ে।

    ২০১৮ সাল,ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতেও তেমন শীত নেই ঢাকার শহরে।চারদিকে বিজয় দিবস উৎযাপনের উৎসব মুখর পরিবেশ।১৮বছরের জমজ দুই নাতনি বেলী,আর কলিকে তাদের রুমে বসে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনাচ্ছে পারুল।নাতনীরা গর্ব করে দাদির কাছে আবদার করে…
    — দীদা,আমাদের দাদাজানও তো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দাদাজানের গল্প বলো না কেন?
    হঠাৎ তার গলা ধরে আসে।চোখের কোণ ভিঁজে উঠে সহসাই। অশ্রু লুকিয়ে নাতনিদের বলে,
    —আজ ঘুমিয়ে পড়ো তো দাদুমনিরা!কাল আবার গল্প শুনাবো।
    নাতনীরা ঘুমিয়ে গেলে খাটের নীচ থেকে টিনের বাক্সটা টেনে বের করে পারুল।সেখান থেকে পুরোনো ডায়েরিটা বের করে শাড়ির আঁচলে চশমার গ্লাস পরিস্কার করে নিয়ে ব্যালকনিতে বসে।পাছে নাতনিদের ঘুম না ভেঙে যায়!সতর্কতার সাথে বারান্দার দরজাটা চাপিয়ে দেয় সে।লাইট জ্বেলে ডায়েরির ভাঁজ থেকে চিঠি দুটো বের করে আলতো হাত বুলায়।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কখনোই চিঠি গুলো পড়তে পারেনি সে।চিঠি খুলে বসলেই চোখ উপচে অশ্রুর ঢল নামে।তাই শুধু হাত বুলিয়েই তৃপ্ত হয় সে।
    যুদ্ধ চলাকালীন সময় সামাদ গ্রামের এক বন্ধুর হাতে পথম চিঠিটা পাঠিয়েছিলো।পরের চিঠিটা পারুল হাতে পেয়েছিলো দেশ স্বাধীন হওয়ার দু’মাস পর।একজন এসে তার হাতে চিঠিটা দিয়ে বলেছিলো,কোন এক অপারেশন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয় সামাদ। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তার সহযোদ্ধার হাতে রক্তমাখা চিঠিটা দিয়ে আকুতি করে বলেছিলো,আমার পারুলের কাছে পৌঁছে দিও….ভাই!
    সামাদের না ফেরার শোক সইতে পারেনি পারুলের শাশুড়ি।দেশ স্বাধীন হওয়ার দুইমাসের মধ্যেই তিনিও চিরবিদায় নিলেন।গ্রামের একটি স্কুলে চাকরি করে ছেলেকে একাই মানুষ করেছে পারুল।
    হঠাৎ ছেলে স্বাধীনের ডাকে পারুলের স্মৃতির দুয়ারে যেন পর্দা পড়ে,ভাবনায়ও ছেদ পড়ে তার।

    —মা…মা…কোথায় তুমি?
    —এই তো বাবা, কেন ডাকছিস? আমি বারান্দায়।
    ছেলে কাছে এসে আদুরে স্আরে বলে,
    —শীতের মধ্যে বারান্দায় বসেছো যে!ঠান্ডা লাগবে তো!

    কৌশলে ডায়েরিটা লুকিয়ে ফেলে পারুল। কিন্তু ছেলের চোখ এড়াতে পারে না।ছোটবেলা থেকেই তো মাকে দেখছে সে।মাঝে মধ্যেই চিঠিদুটো হাতে নিয়ে রাত জেগে বসে থাকে।সারারাত জেগে চোখ দুটো ফুলে যায়।তখন স্বাধীনেরও মন খারাপ হয় খুব।তাই আজো সে অভিমানের স্বরেই মাকে বললো,
    —তুমি কেন আজো চিঠিগুলো নিয়ে সারারাত জেগে থাকো ?
    –বয়স হয়েছে মা।আগের মতো অনিয়ম কি এখন আর শরীরে কুলোবে ?
    —এছাড়া,চিঠিগুলো মলিন হয়ে গেছে।অক্ষর গুলোও অস্পষ্ট। তুমি তো পরিস্কার অক্ষরই চশমা ছাড়া তেমন দেখতে পাও না।এই চিঠির তুমি তো কিছুই পড়তে পারো না। অযথাই রাত জেগে চিঠিতে পলকহীন চেয়ে থেকে শরীর খারাপ করো।
    — উঠো মা,বিছানায় যাও। তোমার শরীর খারাপ করবে তো!
    ছেলের কথা শুনে পারুল উত্তর দেয়…
    তুই ছোটবেলা থেকেই প্রশ্ন করিস,আমি এই অস্পষ্ট চিঠিগুলোতে তাকিয়ে তাকিয়ে কি দেখি?
    —শোন বাবা,
    আমি এই চিঠিতেই আমি তোর বাবাকে দেখি। গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সামাদের মুখ দেখি!
    —লাল সবুজের মানচিত্র আঁকা পতাকা দেখি!
    —এই চিঠি দুটোতেই দেখি বাংলার স্বাধীনতা!

    ৩-১২-২০১৮. সমাপ্ত

  5. ‎Srabon Ahamed‎ to বইপোকাদের আড্ডাখানা (Boipokader Addakhana)

    বইঃ একাত্তরের চিঠি
    লেখকঃ কিছু বীর বাঙালি
    প্রথমা প্রকাশন
    কিছু কিছু জিনিস আছে যা আমাদের অসম্ভব ভালো লাগে কিন্তু কেন লাগে তা পৃথিবীর কোন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এটা এমনি একটা জিনিস!! এটা শুধু মাএ একটা বই নয় বা নয় শুধু কিছু চিঠি!! এটএটা আমাদের ইতিহাস এটা আমাদের কিছু সুখের ও কষ্টে এক গৌরবময় স্মৃতি! বইটির প্রত্যেক পাতায় পাতায় আছে দেশ প্রেম ও দেশের প্রতি ভালোবাসা। বাংলার কিছু বীর সন্তাদের হাতের ছোয়া আর ফেরা না ফেরার এক অনিশ্চয়তা!
    এমনিতে আমি মুক্তিযোদ্ধা দের সাধারণ চোখে দেখি! কারন তখন যদি আমি থাকতাম তাহলে আমিও যুদ্ধে যেতাম তাহলে এটা কি আর এমন কাজ?? কিন্তু কি আসলেই আমি যেতাম? আমার কি ততটা সাহস আছে? এটা বলা কঠিন। সত্যি কথা বলতে মুক্তিযোদ্ধা দের নিয়ে কোন লেখা আমি এড়িয়ে চলতাম শুধুমাত্র হুমায়ুন আহমেদ লেখা ছাড়া। এই বইটা আমায় কেন এতো টানলো তা বলা মুশকিল। হয়তো সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের লেখা দেখে। আমি তো দেখি বইয়ের কথা বাদে শুধু আমার কথায় লিখছি এর জন্য আমি ক্ষমা প্রাথী।
    এই বইয়ের চিঠিগুলো পড়ার সময় হয়তো আপনার চোখের কোনায় একটু পানি জমে আছে তা দেখা যেতে পাড়ে। এই সামান্য কিছু পাতা হয়তো পড়ে আপনি মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাস জানতে পারবেন না কিন্তু কিছুটা হলেও তা আঁচ করতে পারবেন। এর সাথে পাবেন তখনকার দিনের তাদের মনের আবস্থা তারা কিভাবে কষ্টে দিন যাপন করতো তা জানতে পারবেন। এই বইয়ের কিছু চিঠি পড়ে আপনি হাসবেন এবং কাদবেন। আর কিছু চিঠি পড়ে আপনি হয়তো খানিকটা কষ্ট ওপাবেন যখন দেখবেন কোন চিঠিতে ছেলে মাকে ফেরার কথা লিখছে কিন্তু তার আর ফেরা হয়ে উঠেনি!!
    এই চিঠি গুলো দেখতে পাবেন বাবার প্রতি ছেলের শ্রদ্ধা, মার প্রতি ছেলের ভালোবাসা, ভাইয়ের কাছে ভাইয়ের অনুরোধ, সন্তান এর প্রতি বাবার স্নেহ। কিছু চিঠি সংকেতিক ভাষায় ও লেখা হয়ছে। কিছু চিঠি পড়ে আপনার বুক ভরে যাবে যখন দেখবেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্যের কথা যখন লেখা আছে। প্রতেক্টা চিঠি আপনাকে ভাবতে শেখাবে চিন্তা করতে শেখাবে এটা আমি নিশ্চিত। যারা এই রকম কিছু চিঠি কে বই আকারে বের করেছে তাদের কে ধন্যবাদ। তবে কিছু কিছু জায়গায় তাদের আর একটু সচেতন হওয়ার দরকার ছিল এইটা বলতেই হয়। কারন তারা একি চিঠি (প্রথম দুইলাইন ছাড়া হুবুহ এক) দুই বার কেন ছাপালো তাও আবার দুই নামে? আর একটা চিঠি পড়ে মনে হয়েছে চিঠিটা হয়তোবা যুদ্ধের পড়ে লেখা। আমি আসলে তাদের ভুল ধরতে আসিনি আমি আসলে বলতেছি তাদের আর একটু সচেতন হবার দরকার ছিলো। তবুও বলতে হয় এই বইটা অসাধারণ। এই বইটা পড়ে আপনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার সাথে পরিচয় পাবেন, পাবেন তখনকার দিনের বাংলার প্রকৃত অবস্থা। তারা কি পরিমানে আমাদের প্রতি অত্যাচার করেছে আর তাদের সাথি ছিল আমাদের দেশের কিছু লোক। কেউ কেউ হয়তো জীবন বাচাতে রাজাকার এ যোগ দিয়েছিল তবুও তাদের অত্যাচার ক্ষমা করার মতো নয়।
    বইটার সব থেকে যেটা ভালো সেটা হল প্রত্যেক টা চিঠির শেষে প্রেরকের ও প্রাপক এর জায়গায় তদের কিছুটা তথ্য দেওয়া আছে। অবশ্য কিছু চিঠির তাদের নাম পাওয়া যায়নি।
    আর সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন দেখবেন প্রেরক এর নামে সাথে শহীদ যুক্ত করা বা জনতে পারবেন চিঠি লেখার কিছু দিন পরেই সে মারা গেছে তখন মনে হবে এর থেকে বুঝি কষ্টের কিছু নেই! হয়তো সব মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠি এখানে নেই কিছু চিঠি কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে।
    এই বইয়ের প্রচ্ছদ টা চমৎকার আর পাতার মান সম্পর্কে কি বলবো অসাধারণ। বইয়ের কোয়ালিটি হিসাবে বইটার দাম প্রায় কিছুই না বলতে গেলে যা আমার কাছে সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে
    পুনশ্চ ঃ অনেকেই বলে কিছু কিছু বইয়ের রেটিং হয় না। আর আমি বলবো এই বইয়ের রেটিং দেওয়া মানে পাপ করা তাও ছোট খাটো নয় বড় সড়

Add Your Review