কাশ্মীরে আজাদীর লড়াই – একটি ঐতিহাসিক দলিল – প্রবির ঘোষ – Kashmire Azadir Lorai- Ekti Oitihashik Dolil-probir-ghosh

(2 customer reviews)
  • জ্ঞান হোক উন্মুক্ত

    আমরা বিশ্বাস করি, জ্ঞানপ্রাপ্তির অধিকার রয়েছে সবার ।
  • এটি লাইব্রেরীর ডিজিটাল ভার্সন ব্যতীত অন্য কিছু নয়

    লাইব্রেরীতে গিয়ে সবাই যেমন বই পড়ে, তেমন ভাবে এখানেও পড়বে।
  • উন্নততর প্রযুক্তি

    আমাদের লাইব্রেরীতে থাকা বই ডাউনলোড যোগ্য নয়, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বইগুলো কেবলমাত্র পড়ার জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
  • এই লাইব্রেরীতে দেয়া বই, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়

    যেহেতু লাইব্রেরীতে দেয়া বই কেবলমাত্র পড়ার জন্য, কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দায় বুকশেলফ এর উপর বর্তাবে না।
  • বই ডাউনলোড যোগ্য নয়

    এই লাইব্রেরীতে দেয়া বই ডাউনলোড করার উপযোগী নয়।
5.0/5
2 reviews
2
0
0
0
0
  1. bookshelf

    কাশ্মীরে আজাদির লড়াই একটি ঐতিহাসিক দলিল – প্রবীর ঘোষ

    “কাশ্মীর ছিল একটা স্বাধীন দেশ। আজ কাশ্মীরকে দু’টুকরো করে দখলে রেখেছে ভারত ও পাকিস্তান। ভারতীয় হিসাবে আমরা ভাবি, কাশ্মীরের একটা অংশ পাকিস্তান বে-আইনিভাবে দখলে রেখেছে। কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান ভাবে ভারত গায়ের জোরে ছিনিয়ে নিয়েছে কাশ্মীরের একটা অংশ, যা ওদের-ই। কাশ্মীরের ভূমিপুত্র-কন্যারা আমাদের বলে ইন্ডিয়ান; ওদের–পাকিস্তানি। নিজেদের পরিচয় দেয় কাশ্মীরি বলে। কাশ্মীরিরা ভারত ও পাকিস্তানকে দখলদার ছাড়া কিচ্ছু মনে করেনি।

  2. Matiur Rahman

    #কাশ্মীরের আজাদির লড়াই- একটি মূল্যায়ন ( প্রথম পর্ব)#
    আজকের কাশ্মীর লড়াই করছে আগ্রাসনবাদের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। ভারত রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম একথা বুঝাতে চায় যে কাশ্মীর ভারতের অংশ, তাদেরই একটি রাজ্য। কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। ১৯৭১ সালের আগের বাংলাদেশের সাথে দেখা যাবে কাশ্মীরের সংগ্রামের বহু মিল পাওয়া যাবে। আমাদের ফেসবুক বুদ্ধিজীবী সমাজ দুইটি বক্তব্য হাজির করেছেন। একপক্ষের দাবি ভারতের হিন্দুরা কাশ্মীরের মুসলমানদের মারতেছে। এরা মূলত ধর্মীয় চেতনা থেকে বাস্তব অনেক কিছু মূল্যায়ন না করে খালিচোখে যা দেখা যায় তাই মনে করছে। আবার অন্যদিকে আরেকদল আছেন কাশ্মীরের মুসলমান জঙ্গীদের ভারত রাষ্ট্র নিরাপত্তার স্বার্থে যা করছে তা ঠিক করছে। ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে মুসলমান জঙ্গীদের হত্যা নির্যাতন করা যায়। এটা কোন অন্যায় নয়। এখানে যেমন বহু সেক্যুলার চিন্তার লোকজন আছেন তেমনি হিন্দু ধর্মের লোকজন আছেন। এদের দুইপক্ষের বয়ান স্বাধারণত খুবই যুক্তিহীন ভাসাভাসা। অনেকটা মিডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমার এই লেখায় লড়াকু কাশ্মীর বাসীর সংগ্রামের ইতিহাসকে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করবো।

    প্রাচীন কাশ্মীর- কাশ্মীর একটি ভারত পাকিস্তান আফগানিস্তান এবং চীনের মাঝখানে একটি পাহাড়ি এলাকা। এটাকে দুনিয়ার অন্যতম সুন্দর এলাকা বা ভূস্বর্গ বলা হয়। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের এই ভূমি ব্রিটিশ আমলে ছিল একটি করদ রাজ্য। অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসকদের শুধুমাত্র কর দিয়ে স্বাধীন রাজা রাজ্য পরিচালনা করতো। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে এরকম প্রায় ৫০০ টি রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ শতাব্দীর দিকে সম্রাট আশোকের আমলে কাশ্মীর উপতক্যা বৌদ্ধ ধর্মের অধীনে আসে। সেখানে আশোকের উত্তরাধিকারী জালুক কাশ্মীরের রাজা হন। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে কাশ্মীর হুন সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। ৬২৭ শতকে কাশ্মীর কার্কোট রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দুর্লভবর্ধন বিয়ের যৌতুক হিসেবে কাশ্মীর রাজ্য পেলেন। কার্কোট রাজবংশের অধীনে আসার ফলে সেখানে মার্তণ্ড মন্দিরসহ বহু মন্দিরের গোরাপত্তন হয়। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে হিন্দু ধর্মের নব জাগরণের প্রবক্তা শঙ্করাচার্য কাশ্মীরে হিন্দু ধর্মের প্রচারে আসেন। তারপর থেকে হিন্দুদের মধ্যে শৈবরাই সংখ্যাগুরু।

    তারপর ১৩৪৬ সালে কাশ্মীরের হিন্দু রাজা উদয়ন দেবকে হত্যা করে রাজমন্ত্রী আমির শাহ কাশ্মীরের সিংহাসনে বসেন। ১৫৮৬ সনে সম্রাট আকবর কাশ্মীরকে মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে নিয়ে আসেন। জাহাঙ্গীর এবং শাহাজাহানের আমলে সেখানে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে।
    ১৭৫১ সালে আহমদ শাহ আবদালি কাশ্মীরে আফগান শাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। তারপর ১৭৮৯ সনে কাশ্মীর শিখ শাসনের অধীনে আসে। ১৮৪৬ সনে ব্রিটিশদের সাথে যুদ্ধে শিখরা পরাজিত হয়। চুক্তি অনুসারে ক্ষতিপূরণ দিতে না পারায় ব্রিটিশরা ডোগরা রাজা গোলাব সিংহের কাছে এককোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়। তখন থেকে কাশ্মীর একটি স্বাধীন করদরাজ্য হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। গোলাব রাজার বংশধর হরি সিং ১৯২৫ সালে কাশ্মীর এর রাজা হন। তখন থেকেই রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠে। গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য কাশ্মীরের উদীয়মান বুর্জোয়া নেতা শেখ আব্দুল্লা সেখানে গড়ে তোলেন ‘সারা জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্স’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। আব্দুল্লা আবার ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরী জহরলাল নেহেরুর বাল্যবন্ধু। বন্ধুর কথায় ১৯৩৯ সালে মুসলিম শব্দটি উঠিয়ে দিয়ে সেক্যুলার রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স’। যেখানে মুসলমানদের সাথে বহু হিন্দু এবং শিখরা রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। ১৯৩৪ সালে হরি সিং আন্দোলনের চাপে পড়ে দেশ শাসনে কিছুটা রাজনৈতিক সংস্কার করেন। দেশ শাসনে মহারাজকে সহযোগিতার জন্য একটি পরিষদ গঠন করেন। রাজতন্ত্রের বিরোদ্ধে আন্দোলনে বাঁধ সাধলো হিন্দু সহাসভা এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। যারা হরি সিংহের সাথে হাত মিলিয়ে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে চাইলো। যার ফলে এরা প্রচার করতে লাগলো রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের আন্দোলন। যেই আন্দোলনে বহু হিন্দু এবং শিখ প্রজা ছিল। ১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশরা দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান দুইটি রাষ্ট্রের জন্ম হলে কাশ্মীর তখনো আলাদা দেশ রয়ে গেছে। ভারতের সর্বশেষ ব্রিটিশ গবর্নর লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তিনি ঘোষণা দিলেন স্বশাসিত করদরাজ্য ইচ্ছা করলে ভারত পাকিস্তানের সাথে যেতে পারবে অথব্য আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে পারবে। হরি সিং জানিয়ে দিলেন তারা স্বাধীন দেশ হিসেবে থাকতে চায়।

    ১৯৪৬ সালে কাশ্মীর রাজ্যের প্রজারা আন্দোলন গড়ে তোলে ‘কাশ্মীরকো ছোড় দো’। হরি সিং আন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সাহায্য নেন। ফলে শেখ আব্দুল্লার নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলনকে সন্ত্রাস এবং জেল জুলুমের মাধ্যমে দমন করেন হরি সিং। ১৯৪৬ সালে হরি সিং শেখ আব্দুল্লাহকে গ্রফতার করেন। তাঁর বহ সহযোগীকে জেলে ঢোকানো হয়। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। দিল্লি থেকে নেহেরুকে পাঠানো হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। নেহেরু এসে আব্দুল্লাহকে মুক্ত করেন। শেখ আব্দুল্লা দ্বিজাতি তত্ত্বে আস্তা রাখেন নাই। তিনি মনে করতেন মুসলিমলীগ জমিদার ও নবাবদের আন্দোলন। জিন্নাহও ‘কাশ্মীরকো ছোড় দো’ আন্দোলনকে গুণ্ডাদের আন্দোলন বলে চিহ্নিত করেন। ১৯৪৭ সালের দিকে কাশ্মীরে ধর্মীয় দাঙ্গা শুরু হয়। তখন জম্মুতে বহু মুসলমান পালিয়ে যায়। তখন ‘জম্মু প্রজা পরিষদ’ নামে একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন গড়ে তুলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতা বলরাজ মাধক। এই সময় মুসলমানদের উপর ব্যাপক হত্যালীলা শুরু করে দুই সংগঠন। কাশ্মীরে অতীতে এরকম ঘটনার অস্তিত্ব ছিল না। হিন্দু মুসলিম কাধে কাধ মিলিয়ে বসবাস করেছে। ১৯৪৭ এর জুন মাসে পুঞ্চ অঞ্চলের প্রজারা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা রাজাকে কর দিতে অস্বীকার করে। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সাথে সাথে কাশ্মীরেও প্রজা বিদ্রোহ ব্যাপক জঙ্গি রূপ লাভ করে। স্বাধীনতার লড়াইয়ে কাশ্মীরের অধিবাসীরা। কাশ্মীরেএ পুঞ্চ, মীরপুর, মুজফফরবাদ, গিলগিট, ইয়াসিন, হুনজা, স্কারডু, নগর ইত্যাদি জায়গায় কাশ্মীরীরা মুক্ত এলাকা ঘোষণা করে শ্রীনগরের দিকে আগ্রসর হয়। ১৯৪৭ সালের ২৪ অক্টোবর বিদ্রোহীরা আজাদ কাশ্মীর ঘোষণা করে। আজাদ কাশ্মীর সরকার গঠিত হল। স্বশস্ত্র মুজাহিদরা নিজেদের আজাদ কাশ্মীরের সেনাবাহিনী ঘোষণা করলো। মহারাজ হরি সিং শ্রীনগর থেকে পালিয়ে জম্মুতে চলে যান। পাকিস্তান রেডিও ঘোষণা দেয় কাশ্মীর আজাদ হয়েছে। সেখানে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। ২৫ অক্টোবর হরি সিং স্বপরিবারে পালিয়ে দিল্লি চলে যান। ২৬ অক্টোবর পলাতক রাজা ভারতের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। আজাদ কাশ্মীর সরকার ঘোষণা করলো, এই চুক্তি বে-আইনি। সিংহাসনচ্যুত রাজার চুক্তি করার অধিকার নাই। ২৭ অক্টোবর ভারতীয় সেনারা রাজার পক্ষে শ্রীনগর নামলো। আজাদ কাশ্মীর বাহিনী ভারতীয় সেনাদের আক্রমনকারী হিসেবে চিহ্নিত করলো। বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে বাঁচাতে পাকিস্তানের সাহায্য চাইলো। রাজার সময় থেকে কাশ্মীরের ডাক তার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখার দায়িত্ব ছিল পাকিস্তানের উপর। পাকিস্তান সাহায্যে এগিয়ে আসে। ফলে কাশ্মীর ভাগ হয়ে গেল। আজাদ কাশ্মীর এখনো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে আছে। যাদের নিজস্ব সংবিধান, পতাকা এবং প্রধানমন্ত্রী আছে, আছে রাজধানী। যদিও পাকিস্তান এখন স্বায়ত্তশাসনের অনেক কিছু চিনিয়ে নিয়েছে কিন্তু এখন কিছু স্বতন্ত্রতা আছে। ভারত অধিভুক্ত কাশ্মীর বর্তমানে একটি দখলদার এলাকা।

    পরের পর্বে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।
    (তথ্যসূত্রঃ কাশ্মীরের আজাদির লড়াই একটি ঐতিহাসিক দলিল, প্রবীর ঘোষ) ও বিভিন্ন অনলাইন জার্নাল।)

    # কাশ্মীরে আজাদির লড়াই-একটি মূল্যায়ন (পর্ব-২)#

    কাশ্মীর এর জনগণ ভারতকে তাদের দেশ মনে করে না, পাকিস্তানকেও না, তাঁরা নিজেদের কাশ্মীরী বলে পরিচয় দেয়। দুনিয়ার অন্যতম সেনাশাসিত অঞ্চল হল কাশ্মীর যেখানে প্রতি দশজন মানুষের জন্য একজন সৈন্য। ভারত রাষ্ট্র একদম গায়ের জোরে কাশ্মীর দখল করে রেখেছে। ভারতের মিলিটারির প্রতি এমন ঘৃণা কেউ কখন দেখেনি। এই ঘৃণা হিন্দুর প্রতি মুসলমানের নয়, এই ঘৃণা হল অত্যাচারি জুলুমবাজদের প্রতি নির্যাতিতের ঘৃণা। দুঃখ কষ্টে এই ঘৃণার জন্ম নেয়। এই ঘৃণা সহজে দূর হয় না। এই যে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরা ভারতের সেনাদের প্রতি তুতু নিক্ষেপ করে, গুলতি ছুড়ে মারে তা প্রচণ্ড ঘৃণা আর ক্ষোভ থেকে। দুনিয়ার এমন ঘটনা খুব কম দেখা যায়। ভারতকে এরা দখলদার মনে করে। এদের থেকে আজাদিই হল তাদের মুক্তি।

    ভারতের শাসকদের চলমান দমন নীতির ফলে কাশ্মীরীরা আরো বেশি বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠে। সেখানে কেরোসিন ঢেলে দেয় পাকিস্তান। যার ফলে এরা আরো কট্টরপন্তার দিকে অগ্রসর হয়। আশির দশকে পাকিস্তান আফগানিস্তানে যখন উগ্রপন্থার উত্থান ঘটে তা কাশ্মীরকেও প্রভাবিত করে। অন্যদিকে জম্মুতে গড়ে উঠে হিন্দু মৌলবাদের উত্থান। যার ফলে আশির দশকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, নিংস্রতা, উগ্রতা প্রকাশ পায়। সেখানে গড়ে উঠে বিভিন্ন ইসলামী মিলিট্যান্ট গ্রুপ। আবার ভারতীয় গোয়েন্দাদের চর হিসেবে কাশ্মীরের পণ্ডিত সম্প্রদায়ের কেউ কেউ জড়িত ছিল। সেখান থেকে অবিশ্বাসের জন্ম নেয়। মুসলমানরা পণ্ডিতদের উপর আক্রমণ করে। ফলে এদের অনেকেই কাশ্মীর ছেড়ে পালিয়ে যায়। এটা মনে করার কারণ নেই যে মুসলমান হওয়ার কারণেই এরা মিলিট্যান্ট পথে আগাইছে। ক্রমবর্তমান নিপীড়ন নির্যাতন এদেরকে উগ্রপন্থার দিকে নিয়ে গেছে।

    কাশ্মীরের জনসংখ্যার ৬৬-৭০ ভাগ মুসলমান, ২৫-২৮ ভাগ হিন্দু, ২ ভাগ শিখ, ১-১.৫ ভাগ বৌদ্ধ আছেন। ফলে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়ার জন্য কাশ্মীর ছিল আদর্শ জায়গা। এমনকি শেখ আব্দুল্লা ছিলেন একজন ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ। কিন্তু ভারতের এই আগ্রাসী আচরণের কারণে সেখানে ইসলামী মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে। ইট মারলে তার প্রতিবিম্ব দেখা যায়। তুমি প্রতিনিয়ত হত্যা নির্যাতন ধর্ষণ করবে। হাসপাতালে যখন চিকিৎসা নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ, যখন তখন, কারফিউ, জীবন যাত্রার প্রবাহে প্রতিনিয়ত বাঁধাবিপত্তি সেই ভূখন্ডের মানুষের কাছ থেকে ভাল আচরণ আশা করা যায় না।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজা হরি সিংকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যখন পরিবেশ কিছু শান্ত হয়ে আসবে তখন গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরীদের ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত করা হবে। কিন্তু কোনদিন এই প্রতিশ্রুতি ভারতের শাসকরা করেনি। প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হয়েছে কাশ্মীরবাসী।

    ১৯৪৮ সালে শেখ আব্দুল্লা কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হলেন(মুখ্যমন্ত্রী নন)। তিনি শুরুতেই ভূমি সংস্কারে হাত দিলেন। জায়গীরদারী ও জমিদারিসহ সকল সামন্ততান্ত্রিক অধিকার উচ্ছেদ করলেন। ক্ষতিপূরণ ছাড়াই চারলক্ষ জমি উদ্ধার করলেন। কৃষকদের ঘোষণা দিলেন, কোন কৃষক গৃহিত অর্থের দেরগুন পরিশোধ করলে কৃষি ঋণ মাফ। যার ফলে কাশ্মীরের জমিদার শ্রেণী এবং রাজা হরি সিং এর সাথে শেখ আব্দুল্লার সম্পর্ক অবনতি হল।

    নেহেরুর পরামর্শে রাজা পদত্যাগ করলেন। ফলে তার পুত্র করণ সিং হন রাজা। করণ সিং ছিলেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতা। কাশ্মীরের ভূমি সংস্কারে নেহেরু আব্দুল্লার কাজকে মেনে নিতে পারেন নাই। ফলে সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততার জন্ম হল!
    তখন আব্দুল্লার ভূমি সংস্কার আইনকে করণ সিং নিজে অনুমোদন না দিয়ে পাঠালেন ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে। যা ছিল ভারতের সাথে চুক্তি বিরোধী। ফলে ভারতের চাপে পড়ে আব্দুল্লা তাঁর ভূমি সংস্কার প্রচেষ্টা থেকে ফিরে আসেন।

    ১৯৫১ সালে আব্দুল্লার দল বিপুল জয়লাভ করে। ফলে ১৯৫১ সালের ৫ নবেম্বর আব্দুল্লার পার্লামেন্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। যার মধ্যে ছিল নিজেদের সংবিধান, রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি, জমি বাজেয়াপ্ত জমিদারের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ভারতের অন্তভুক্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত।
    কিন্তু তখন জম্মুতে শুরু হয়ে যায় হিন্দু সাম্পদায়িকতা। যার ফলে নেহেরুর সাথে মিলে আব্দুল্লা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এড়াতে জম্মু এবং লাদাখকে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন দিতে রাজি হলেন।

    আজকের বিজেপি যারা ১৯৫২ সালে জনসঙ্ঘ নামে পরিচিত ছিল প্রথম দাবি তুলেছিল, ‘একদেশ, এক বিধান, এক প্রধান। যেখানে ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ধারায় যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল তা বাতিলের দাবি তুলেছিল। তা আজ প্রায় ৭০ বছর পর তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে।

    কাশ্মীরীদের স্বাধীনতার দাবি এভাবে ধাবিয়ে রাখা যাবে না। নিপীড়ক ভারতীয় শাসকদের নানা কৌশল কখনই কাশ্মীরী জনগণের মুক্তির লড়াই শেষ হয়ে যাবে না। আগামী দিনে সে লড়াই আরো তীব্র থেকে তীব্র হবে। মুক্তির লড়াই কখনো শেষ হয় না। কাশ্মীরের জনগণের জন্য ভালবাসা এবং শুভকামনা। লেখাটি ফেসবুক উপযোগী করায় সংক্ষিপ্ত করতে হল। অন্য কোন লেখায় বিস্তারিত নিয়ে লিখবো।

Add Your Review